বিয়ের আয়োজনে এক আইটেমের বেশি খাবার নিষিদ্ধ

জ্বালানি সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানে করোনাকালীন লকডাউনের আদলে কঠোর ব্যয়সংকোচন নীতি ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সরকার। আমদানিনির্ভর দেশটিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতি, পাশাপাশি পেট্রল-ডিজেলের দামও পৌঁছেছে আকাশচুম্বী পর্যায়ে।

গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই সংকটে পড়ে পাকিস্তান। দেশটির প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ আমদানি হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যুদ্ধের কারণে যে পথ এখন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত। ফলে পেট্রল-ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছালে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে বেড়ে গেছে জিনিসপত্রের দামও। তাঁর ভাষ্য, এই বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের ওপর না চাপিয়ে আগে ত্যাগ স্বীকার করা উচিত সরকার ও উচ্চবিত্তদের।

এই লক্ষ্যে সব সরকারি গাড়ির তেল ব্যবহারের কোটা একধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদিও সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জরুরি সেবার গাড়ি এর বাইরে থাকবে। সরকারি খরচে নতুন কোনো গাড়ি কেনাও পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে।

আমোদপ্রমোদ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও একগুচ্ছ বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে সব দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল, বিয়ের হল ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে রাত ১০টার মধ্যে, আর রেস্তোরাঁ-ক্যাফে বন্ধের সময়সীমা রাত ১১টা। অপচয় ঠেকাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য এক পদের বেশি খাবার পরিবেশনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ফার্মেসি, হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প ও আইটি সেবার মতো জরুরি প্রতিষ্ঠানগুলো এই সময়সীমার আওতার বাইরে থাকবে।

আগামী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকছে। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে বিদেশযাত্রা করতে হলেও বিমানে শুধু ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে কর্মকর্তাদের, আর জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি দপ্তরের সব বৈঠক অনলাইনে আয়োজনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top