স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন এবং চলমান সংঘাত শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে না গেলে তা বাংলাদেশ ও দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা নিয়ে ঢাকা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাহাজ ও কনটেইনার বর্তমানে আটকা পড়ে আছে, এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এ সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে। যুদ্ধ শেষ হলে আটকে পড়া জাহাজগুলো নিরাপদে যাতে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারে, সে ব্যাপারেও ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘকে একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করে থাকে, এবং জ্বালানি সংকটে যেন দেশ না পড়ে সে বিষয়েও উদ্বেগের কথা ইরানের প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ইরানের প্রেসিডেন্টসহ উপস্থিত কর্মকর্তারা বাংলাদেশের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শুনেছেন এবং বিষয়গুলো নোট করে রেখেছেন।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অংশীদাররাও তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে এ ইস্যুতে কথা বলার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দেশের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ একটি ‘সফট মিডিয়াম’ হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে।

