ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি অভিযোগ তোলেন, জ্ঞানেশ কুমার দেশের সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী এবং বর্তমান সময়ে ভারতের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্কের কারণ, তাই তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগে ব্যর্থ হলে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিগত প্রায় ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি ভোটার তালিকা সংশোধন ও হালনাগাদ প্রক্রিয়া নিয়ে অন্তত ১৪ বার প্রশ্ন কিংবা আপত্তি তুলেছিলেন, যার মধ্যে ছিল ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ দেওয়া এবং তালিকা সংশোধনের নানা প্রক্রিয়া। তবে এই ঘটনাকে কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন হিসেবে উপস্থাপনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, কোনো প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ভিন্নমত, পর্যবেক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এবং ভোটার তালিকা সংশোধনসহ তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কে যুক্ত হয়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলোও। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তন এনে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় কংগ্রেস, পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ এবং ভোটার তালিকায় আনা পরিবর্তনের স্বাধীন পর্যালোচনার দাবিও জানায় দলটি। পাল্টা জবাবে বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়, নিয়মিত নির্বাচনে পরাজয়ের কারণেই বিরোধীরা কমিশনের বিরুদ্ধে এই প্রচারণা চালাচ্ছে।
এর আগেও সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিল সিজেপি। এবার তাদের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক।

