এবার সেতু নির্মাণে রডের বদলে মিললো জিআই তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাসানহাট বাজারসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন সেতুতে রডের বদলে জিআই (গ্যালভানাইজড আয়রন) তার ব্যবহার এবং ঢালাইয়ে নির্ধারিত অনুপাতে সিমেন্ট না দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সরেজমিন তদন্তে এর সত্যতা পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এর ভিত্তিতে উপজেলা প্রকৌশলী মনসুর আহম্মেদ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ফুটপাতের পাটাতন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, ঠিকাদার অফিসকে অবহিত না করেই কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রথমে সন্দেহ তৈরি হয়, পরে সরেজমিন পরিদর্শনে কাজের গাফিলতি ধরা পড়ার পরই পাটাতন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, জমিদারহাট-সাহেবেরহাট-হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর পরিদর্শনকালে ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজ নিম্নমানের পাশাপাশি নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত বলে চিহ্নিত হয়। এ ঘটনায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। সেতুর নির্মাণকাজ তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মনসুর আহম্মেদ এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের কাছে কৈফিয়ত তলব করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ কাজ সাত দিনের মধ্যে সংশোধন করতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিল না দেওয়ার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

একই বাজার এলাকায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আরেকটি সেতুতেও রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে ওই সেতুর একাংশ ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমানে এর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মনসুর আহম্মেদ জানান, রডের বদলে জিআই তার ব্যবহৃত অংশগুলো অপসারণ করে নতুন করে নির্মাণের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার পক্ষ থেকে এ জন্য শ্রমিকদের দায়ী করার চেষ্টা হলেও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন ব্যাখ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top