দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, জ্ঞান ফিরে কথাও বলছেন

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরেছে দণ্ডিত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। ৫০ বছর বয়সী এই নারী এখন জেগে আছেন এবং কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাইকের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার দুই হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব আঘাতের মধ্যেও তাকে হাসপাতালে বিছানার সঙ্গে হাতকড়া ও শিকল দিয়ে রাখা হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, তার জ্ঞান ফিরে আসা ও কথা বলতে পারার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন। তবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গত বুধবার টেনেসিতে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাকে দুই দফায় প্রাণঘাতী ইনজেকশন পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে প্রবেশ করা রাসায়নিক অপসারণের চেষ্টা করেন। কয়েক দিন অচেতন থাকার পর অবশেষে তার জ্ঞান ফেরে।

ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের অধ্যাপক ও অপরাধবিজ্ঞানী ডেবোরা ডেনো ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আরও কয়েকজন বন্দি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া থেকে বেঁচে গেছেন। তবে সেসব ঘটনায় বন্দিদের শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ সফলভাবে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। পাইকের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী রাসায়নিক প্রয়োগের পরও তিনি বেঁচে গেছেন, যা এ ধরনের ঘটনার মধ্যে ব্যতিক্রমী।

পাইকের চিকিৎসা দলের উপদেষ্টা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ড. জোয়েল জিভোট জানিয়েছেন, তার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। তবে তার শরীরে ঠিক কতটা পেন্টোবারবিটাল প্রবেশ করেছিল, রক্তে ওই রাসায়নিকের মাত্রা কত ছিল এবং দীর্ঘমেয়াদে তার শারীরিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব পড়বে? এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওষুধটি রক্তপ্রবাহে না গিয়ে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসা দিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় মস্তিষ্কে ক্ষতির আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

পাইক ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পান। হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। তিনি তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যা করেছিলেন। তাদের পরিচয় হয়েছিল সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত একটি কর্ম প্রশিক্ষণ শিবিরে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের আইনজীবীরা তার শারীরিক গঠন, সরু শিরা এবং থ্রম্বোসাইটোসিসের কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগে অতিরিক্ত ব্যথা ও যন্ত্রণার আশঙ্কা জানিয়েছিলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তারা জানান, তার দুই হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকরের চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

এদিকে পাইকের আইনজীবীদের ন্যাশভিলের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তারা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নিয়ে কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top