রাজধানীর খিলক্ষেতে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকার তিনতলা বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আফগানিস্তানের একজন নাগরিকও আছেন।
ডিবি সূত্র জানায়, বাড়িটিতে রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবন ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চলার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির আয়োজন করা হচ্ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডিবির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইলিয়াস কবির জানান, একজন হোস্ট ও একজন কো-হোস্টের মাধ্যমে বাড়িটি পরিচালিত হতো। অভিযানে কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বাড়িটির মালিক আব্দুল্লাহ আল জহিরের দাবি, বাড়িটি এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলার প্ল্যাটফর্মে ভাড়া দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। জন্মদিন ও গায়েহলুদের মতো অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ির উঠান ভাড়া দেওয়া হতো। তাঁর ভাষ্য, ভাড়াটিয়াদের অবৈধ কর্মকাণ্ড, মাদক ও মদসংক্রান্ত কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নিয়ম ছিল। ভাড়া নেওয়া ব্যক্তিরা গোপনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করলে তার দায় বাড়ির মালিকের ওপর বর্তানো উচিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনাকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ঘটনার তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাড়িটিতে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

