ঢাকায় সরকারি বাসা নেওয়া চাকরিজীবীদের কড়া হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সরকারি আবাসনে বসবাসরত চাকরিজীবীদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সরকারি বাসায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়া গেলে কিংবা এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বড় অঙ্কের জরিমানা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ঢাকা মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণবিষয়ক সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় মীর শাহে আলম বলেন, রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের আবাসন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যর্থ হলে তাঁদের সরকারি বাসায় থাকার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। এ জন্য পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা কমিটিগুলোকে অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক ভবন পরিদর্শন করেছেন। এসব স্থানে বড় সরকারি কোয়ার্টার, আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোথাও এডিস মশার লার্ভা এবং পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে গুরুতর অবহেলার চিত্র পাওয়া গেছে।

ঢাকার খাল ও লেক পরিষ্কারে উদ্যোগ

রাজধানীর পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেকের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও নেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজধানীতে প্লাস্টিক ও লোহার তৈরি ডাস্টবিন চুরি হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফাইবার বোর্ডের ডাস্টবিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন পর্যায়ক্রমে এসব ডাস্টবিন স্থাপন করবে।

নজরদারিতে ২০টি বিশেষ কমিটি

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে ১০টি করে কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সভায় প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কমিটিগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা কমিটিগুলোর সদস্যরাও এতে অংশ নেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top