পহেলা জানুয়ারি-২০২৬ থেকেই আংশিকভাবে বেতন কাঠামো চালুর আভাস

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের প্রতিবেদন আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে কমিশন। এই কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে সরকার। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে হলেও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্যেই এই বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করতে না পারলেও পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন প্রস্তাবে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে প্রায় ১৮ হাজার টাকা বা তার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বেতন বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকার উপরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বেতন কাঠামোর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত হবে ১:৮।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর জন্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গত বছরের জুলাই মাসে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। এখন সেই প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি, এরপর উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নতুন বেতন কাঠামো শুধু বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়, এটি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ লাঘবের বড় প্রত্যাশা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের জীবনযাত্রার খরচ সামলানো সহজ হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

google-site-verification=7TfDG2GxHVLv84lAW9ayn7eU6ZzescHLfgW6R86o7Dk
Scroll to Top