অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে

হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে হয়রানির প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন কয়েকজন তরুণ। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা নিজেরাও হাফপ্যান্ট পরে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে যান এবং মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেন। তাঁদের বক্তব্য, স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কোনো যাত্রীকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শিরোনামে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। সকাল ৭টার দিকে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে পাঁচ তরুণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে সাগর মজুমদার, রকিবুল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান রয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্য তাঁর পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে তাঁকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সাজ্জাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ দেন। শরীরচর্চা বা দৌড়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে হাফপ্যান্ট বা শর্টস স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং তাঁর হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাগর মজুমদার নিজেও একজন রানার। তিনি বলেন, দৌড়ানোর সময় শর্টস পরা তাঁর কাছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। সাজ্জাদ হোসেনের মতো তিনিও যেন মেট্রোরেল বা অন্য কোথাও একই ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন। তাঁর মতে, শর্টসকে নেতিবাচকভাবে দেখার পরিবর্তে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখা উচিত।

ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমানও কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরে যাতায়াতের সুযোগ থাকা উচিত। তিনি সাধারণত মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন না এবং নিয়মিত শর্টসও পরেন না; তবে অধিকার নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দীর্ঘদিন পর হাফপ্যান্ট পরে ফার্মগেট স্টেশনে আসেন।

পরে সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান হাফপ্যান্ট পরেই মেট্রোরেলে ওঠেন। তাঁরা টিকিট কেটে প্ল্যাটফর্মে যান এবং ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে যান। একই সময়ে ফার্মগেট স্টেশনের অন্য একটি প্রবেশপথ দিয়ে আরও দুজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়ে খোলা ফেসবুক ইভেন্টে বলা হয়েছিল, এটি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আয়োজন নয়; বরং হয়রানির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ। আয়োজকদের বক্তব্য ছিল, কোনো পোশাক নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা প্রয়োজন।

আয়োজকদের খোলা ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ এবং ৮ হাজার ২০০ জন ‘ইন্টারেস্টেড’ ছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ঘোষিত কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত অল্পসংখ্যক তরুণকে অংশ নিতে দেখা যায়।

এদিকে ঘটনাটির পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top