এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। প্রচলিত নিয়মে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করিয়ে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৭ সাল থেকে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন জানান, এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে ভালো ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ
এসএসসিতে কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চালুর প্রস্তাব এসেছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছ থেকে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, বিশেষ করে যে বিষয়ে শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, শুধু সেই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আশাবাদও প্রকাশ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা কার্যকর নিয়ম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব
শুধু পুনঃপরীক্ষার সুযোগ নয়, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। এ জন্য ভাষা শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন মাহদী আমিন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিন থেকে ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজে দক্ষ করে তোলা সম্ভব। ভাষা শেখার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেলে অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলে মনে করছে সরকার।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষা শেষ করেও অনেকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয় না। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তাঁদের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি বিকল্প শিক্ষাগত ও কর্মমুখী পথ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে পুনঃপরীক্ষার সময়সীমা, পদ্ধতি এবং অন্যান্য সহায়তা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

