দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া নিজের কোনো বক্তব্য থেকেই তিনি সরে আসেননি। তার বক্তব্য নিয়ে যারা আইনি কিংবা অন্য কোনো ধরনের হুমকি দিচ্ছেন, তাদের জবাব দেওয়ার জন্যও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি আমেরিকানিউজভিত্তিক টকশো ‘ঠিকানায় খালেদ মহিউদ্দীন’-এ অতিথি হয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্য, স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে সালমান মুক্তাদির জানান, তার কোনো বক্তব্যই বিকৃত বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বক্তব্যের কারণে যারা তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা অন্য ধরনের হুমকির কথা বলছেন, তাদের সামনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে তিনি প্রস্তুত। নিজের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি এখনো আগের অবস্থানেই রয়েছেন বলেও জানান।
আলোচনায় উঠে আসে সালমান মুক্তাদিরের তৈরি ‘মুক্তাদিরের সরকার’ কনটেন্ট এবং এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। একই সঙ্গে তার স্টুডিও ‘ব্রাউন ফিশ স্টুডিওতে’ ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়। ওই ঘটনার পেছনে কারা থাকতে পারে এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে সন্দেহের কথা উঠেছে, সেসব নিয়েও আলোচনা হয়। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে বাংলাদেশে কাজ করা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি জানান, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই সংগীতশিল্পী জেমসের সঙ্গে গিটার বাজানোর স্বপ্ন ছিল তার। পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
সালমান বলেন, দেশের মানুষের জন্য কিছু করা এবং তাদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা তিনি সবসময় করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এ কারণে বাংলাদেশকে ঘিরে নিজের আর কোনো স্বপ্ন অবশিষ্ট নেই বলেও জানান তিনি। তবে এই মন্তব্যের পেছনে রাগ বা ক্ষোভ নেই বলে উল্লেখ করেন সালমান। বরং এটিকে নিজের একটি ঘোষণা হিসেবে দেখছেন তিনি।
তবে দেশে নিজের জন্য নতুন কোনো স্বপ্ন না থাকলেও অন্য কারও স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে পাশে থাকার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির।

