জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এ সাতজন সবাই বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা রায়ে সন্তুষ্ট নন। শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের পক্ষে আইনজীবী ইসরাত জাহান রায় ঘোষণার পর বলেন, তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন আসামিদের খালাস করানোর জন্য যুক্তি প্রদর্শন ও জেরার মাধ্যমে, তবে তার চার আসামি বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও কয়েকজন আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় মান্য করতে বাধ্য থাকলেও এই রায়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই রায়ে শুকরিয়া আদায় করছেন। তিনি জানান, মামলার প্রতিটি আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল এবং অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে নিযুক্ত এই দণ্ডিতদের কর্মের কারণে সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ জন মানুষ শহীদ হয়েছিল এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিরা বিচারকার্য সম্পর্কে অবগত থাকার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক আছে এবং এই ক্ষেত্রে আইনের বিধান অনুযায়ী বিচার পরিচালিত হয়েছে।
রোম সংবিধির ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিধান থাকলেও এই রায়ে প্রতিটি আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন। এই অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো সংস্থা দ্বারা বিক্রয় করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

