জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করাকে কেন্দ্র করে এবার শোকজের মুখে পড়েছেন বিএনপির এক নেতা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রমনা থানা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
রবিবার (৮ মার্চ) রাতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ শোকজ করা হয়েছে বলে দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দলের সিদ্ধান্ত বা অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ কারণে আশরাফুল ইসলামের কাছে তার কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের মানহানির অভিযোগ এনে আদালতে একটি মামলা দায়েরের আবেদন করেন আশরাফুল ইসলাম। মামলার আবেদনে বলা হয়, নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী তার রাজনৈতিক বক্তব্যে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তবে দলীয় নেতৃত্বের মতে, এমন কোনো মামলা দায়ের করার আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
চিঠিতে আশরাফুল ইসলামকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে লিখিতভাবে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটিও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়ে আশরাফুল ইসলামের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই বিএনপি এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে রবিবার (৮ মার্চ) সকালে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার আবেদন করেছিলেন আশরাফুল ইসলাম। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে, বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুই প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধও লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে মন্তব্য করার কারণে পাটওয়ারীর কিছু বক্তব্য ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন মির্জা আব্বাস এবং তিনি ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন

