বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর ভবিষ্যতে বড় শক্তির ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নিয়েই সতর্ক করেছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি দেশজুড়ে বেশ কিছু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর নরসিংদী এলাকায় ৫.৭ মাত্রার বড় ভূমিকম্প ঘটে এবং চলতি মাসে প্রায় দশটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে করে সাধারণ জনগণ ও বিশেষজ্ঞ উভয়েই উদ্বিগ্ন। প্রায় প্রতি দুই দিন পর একটি করে ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। এত কম সময়ে এত বেশি ভূমিকম্প হওয়ার নজির সাধারণ নয় বলে তারা মনে করছেন।

ভূমিকম্প বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ভূমিকম্প প্রকৃতি এমন যে দীর্ঘ সময় শক্তি জমা হওয়ার পর তা একত্রে বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, ফলে বড় ধরনের ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়া সম্ভব। অতীতে ১৯৩০ সালে এই অঞ্চলে প্রায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল, যা তখন বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছিল। সেই ধরনের শক্তি আবারো জমা হওয়ার আশঙ্কা এ অঞ্চলে বিদ্যমান বলে তারা সতর্ক করেন।

বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বর্তমান যে পরিমাণে ভূমিকম্প হচ্ছে তা যদি একই থাকে তাহলে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই ভবিষ্যতের ক্ষতি কমাতে ভূমিকম্প-সহনীয় নির্মাণ, আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।” তিনি ইঙ্গিত দেন, সরকার এবং পরিকল্পনাক্রমে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবন যাচাই, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু বড় শহরগুলোতেই নয়, গ্রামীণ অঞ্চলেও ভবন নির্মাণের সময় ভূমিকম্প-সহনীয় নকশা প্রয়োগ করা উচিত। পুরাতন নির্মাণগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার বা পুনর্বিন্যাস করা দেশের জন্য জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা, ফার্স্ট রেসপন্স কাজ এবং জনসচেতনট্যাঁমূলক কর্মসূচি   করা হলে বড় ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলা করা সহজ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top