বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আর্থিক ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ঋণ নেওয়ার বদলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়াই বেশি যৌক্তিক বলে মত দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সচিবালয়ে এফইআরবি’র (ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স অব বাংলাদেশ) নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বিপুল পরিমাণ ঋণের কারণে। বকেয়া, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগে লোডশেডিং ছিল দৃশ্যমান সমস্যা। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রে আলো জ্বললেও তার পেছনে বিশাল ঋণের দায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানোর চেয়ে সাময়িক অসুবিধা সহ্য করা অর্থনৈতিকভাবে বেশি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উৎপাদন বন্ধ বা কম থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ভাড়া দিতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক আর্থিক সংকটকে আরও তীব্র করছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়ার আগেই সরকার খরচ কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। আগে ব্যয় কমানো, চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং অপচয় কমানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিস্টেম লস কমানোকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমানে এই ক্ষতির হার তুলনামূলক বেশি বলে স্বীকার করে তিনি জানান, তা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা গেলে মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও হ্রাস পাবে। দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা বাড়ানো ও অপচয় কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি না হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নতুন কূপ খনন ও উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগে, তাই তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

