বাংলাদেশের মাঝেই একখণ্ড দক্ষিণ ভারত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই গড়ে উঠেছে রাঙামাটি কলোনি, যা কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসা প্রান্তিক তেলুগু সম্প্রদায়ের একটি বাসস্থান। প্রায় ২৫টি পরিবার এবং ২০০ জন মানুষের এই ভূমিহীন জনগোষ্ঠীটি বৃহত্তর সমাজের কাছে এখনও অনেকটাই অজানা এবং তাদের জীবন সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ঘেরা।

এই সম্প্রদায়ের ইতিহাস প্রায় ৪০০ বছর আগের মোগল আমল থেকে শুরু হয়, যখন তাদের পূর্বপুরুষদের জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে এ দেশে আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে, ব্রিটিশ আমলে তারা রেলপথ নির্মাণ, সিলেটের চা বাগান এবং ঢাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে, এই সম্প্রদায়ের অনেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, যারা ভোর হতেই ক্যাম্পাস পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণের কাজে নেমে পড়েন।

ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবদান রাখা সত্ত্বেও এই জনগোষ্ঠী তীব্র সামাজিক ও পেশাগত স্থবিরতার মুখোমুখি হচ্ছে। তেলুগু তরুণ শ্রী দেব এবং তেলুগু সম্প্রদায়ের সভাপতি আপ্পারাও জনি জানান, তাদের সম্প্রদায়ের তরুণরা মাস্টার্স পাস করার পরও শুধু পরিচয়গত বৈষম্যের কারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। নিয়োগদাতারা তাদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেরানি বা অন্য কোনো পদে না নিয়ে, বংশানুক্রমিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবেই বিবেচনা করেন।

সংস্কৃতি ও ভাষার বিলুপ্তি তাদের আরেকটি বড় সংকট। প্রবীণরা আলপনা আঁকা এবং ইডলি, দোসার মতো ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ ভারতীয় খাবার তৈরি করে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখলেও, তেলুগু ভাষা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই ভাষাটি বুঝতে পারলেও সাবলীলভাবে বলতে বা লিখতে পারে না। এই সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে তারা সরকারের কাছে অন্তত পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত তেলুগু ভাষার পাঠ্যবই ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন, যেন তারা করুণা নয় বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতি পান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top