রাজধানীর গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধরের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রুশ বংশোদ্ভূত মডেল মনিকা কবির। এর মধ্যেই দেওয়া তার একটি বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে গুলশান-২ এলাকায় টিকটক ভিডিও ধারণের সময় ওই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি বৃদ্ধ ব্যক্তির ব্যাগের কোণা তার গায়ে লাগলে মনিকা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি ওই পথচারীকে উদ্দেশ করে গালিগালাজ করেন এবং ব্যাগ ছুড়ে মেরে তাকে শারীরিকভাবে অপমান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার একটি ভিডিও মনিকা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই তার আচরণকে অমানবিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সমালোচনার মুখে এক বার্তায় মনিকা কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ তাকে কষ্ট দিলে তিনিও দেশকে কষ্ট দেবেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিদেশে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশে এসে নানা কাজ করেছেন। তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আরও তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
মনিকা কবিরের প্রকৃত নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা। রাশিয়ায় জন্ম নিয়ে মস্কোতে বেড়ে ওঠা এই মডেলের বাবা একজন ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ী। পারিবারিক ব্যবসার সূত্রে ২০১২ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন।
এর আগেও তার পোশাক ও জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক দেখা গিয়েছে। তবে গুলশানের সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

