নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দাবি করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ বলে উল্লেখ করেন। তবে পরবর্তীতে তার এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম বর্তমানে জীবিত রয়েছেন এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম নিজের বক্তব্যে ভুল থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারণ করা হয়েছে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে তার নির্বাচনি হলফনামার তথ্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হলফনামা অনুযায়ী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্য ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় এক দশক পর তার জন্ম হয়।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। এ তথ্য প্রকাশের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া কোনো ব্যক্তির সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করলেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে এমন বক্তব্য দেওয়াকে দায়িত্বহীনতার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

