বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়ার বিষয়টি বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখনকার মতোই ভবিষ্যতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর মাধ্যমে হবে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন হয়। এই পদ্ধতিই অব্যাহত থাকবে। অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক-সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও এখন এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রক্রিয়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ পদগুলোর লিখিত পরীক্ষা প্রায় পাঁচ মাস আগে অনুষ্ঠিত হলেও মৌখিক পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী শীঘ্রই এ পরীক্ষার জন্য ভাইবা বোর্ড গঠন করা হবে।
অন্যদিকে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। এই কাঠামো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। নবম গ্রেডে যেখানে আগে মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা, নতুন কাঠামোয় তা হবে ৪৪ হাজার টাকা।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছর জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। সব ভাতা প্রাপ্তি শুরু হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের কথা বিবেচনা করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সাথে সাথে আগের ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।
নতুন কাঠামোয় মূল বেতনের নির্দিষ্ট হারে বাড়িভাড়া পাওয়া যাবে। জেলা শহরে ৪০ শতাংশ, ঢাকায় ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য বিভাগে ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও রয়েছে।

