দীর্ঘ বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) লটারি কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির ফেডারেল আদালতের নির্দেশে ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরু করার পথ তৈরি হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এ বিষয়ে আদালতে মামলা হয়। পরে আদালত আবেদনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে নতুন করে উদ্যোগ
ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত। এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। কর্মসূচিটির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেন। মামলাটি করে রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আবেদন গ্রহণ শুরু করলে কর্মসূচির প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে আদালতের বিবেচনায়, সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়াকে কংগ্রেস অনুমোদিত কর্মসূচি বন্ধ রাখার যথেষ্ট কারণ হিসেবে দেখা যায়নি।
বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
এবারের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশ অংশ নিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিরা ডিভি লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী যাওয়ায় বাংলাদেশ এ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হলেই যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
আবেদনের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদনপদ্ধতি জানতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি, অর্থের বিনিময়ে লটারিতে নির্বাচিত করে দেওয়া বা গ্রিন কার্ড নিশ্চিত করার দাবি করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
ডিভি লটারিতে আবেদন করতে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তাই আবেদন শুরুর আগে সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত ওয়েবসাইট যাচাই করে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

