জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশন ইরানে চালানো আমেরিকান হামলায় যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের মিশন বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। ইরানের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ১২০ জন ছিল স্কুলের শিক্ষার্থী।
একই প্রতিবেদনে স্কুল ছাড়াও আরেকটি বিমান হামলার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে একটি সহজেই চেনা যায় এমন ক্রীড়া স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যাতে ২২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। জাতিসংঘের মিশন এই ধরনের হামলাকে বাসস্থান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করার কারণে যুদ্ধাপরাধ বলে মনে করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল আমেরিকাবিরোধী বক্তব্য এবং ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় এবং দমনমূলক শাসনব্যবস্থার পক্ষপাতী। এই অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।
হোয়াইট হাউস পক্ষ থেকেও প্রতিবেদনের তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, এই সংঘাতে শুধুমাত্র ইরানের শাসকগোষ্ঠীই যুদ্ধাপরাধ করেছে, আমেরিকা নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেওয়া হবে।

