যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা পেতে সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি

যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত কাজে যেতে ইচ্ছুক বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল যাচাইয়ের নতুন নীতি কার্যকর হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে এই নীতি কার্যকর করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য যেসব বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী ‘আই’ (I) ভিসার আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতি যাচাই করা হবে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় আই ভিসার পাশাপাশি টিএন (TN) ও টিডি (TD) নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার আবেদনকারীদেরও রাখা হয়েছে। ভিসা যাচাই সহজ করতে এসব আবেদনকারীর সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইলের গোপনীয়তা সেটিং ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার সময় নিজেদের সামাজিকমাধ্যম অ্যাকাউন্ট সবার জন্য দৃশ্যমান রাখতে হবে। তবে ঠিক কত বছর বা মাস আগের পোস্ট, কার্যক্রম কিংবা তথ্য পর্যালোচনা করা হবে, কতদিন পর্যন্ত প্রোফাইল উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং অনলাইনে কী ধরনের কনটেন্ট যাচাইয়ের আওতায় আসবে—এসব বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বিস্তারিত জানায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা আবেদন যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীদের বিষয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য বিবেচনা করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আবেদনকারী মার্কিন আইন মেনে চলবেন কি না এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবেন কি না, তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ ভিসাপ্রার্থীর কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য নেওয়ার ব্যবস্থা ২০১৯ সাল থেকেই চালু রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদেশি সাংবাদিক, টিএন ও টিডি ভিসার আবেদনকারীদেরও সামাজিকমাধ্যম যাচাইয়ের আওতায় আনা হলো।

টিএন ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (USMCA)-এর আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, টিডি ভিসা টিএন ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য।

এদিকে, সামাজিকমাধ্যম যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, ভিসা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো আইন মেনে চলার বিষয়টি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ-সংক্রান্ত ঝুঁকি যাচাই করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top