যে বছর এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ হবে

সাধারণত একটি গ্রেগরিয়ান বছরে মুসলিমরা দুটি ঈদ উদযাপন। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা, এই দুইটি ঈদ পালন করেন এবং হজের মৌসুমও আসে একবার। তবে ২০৩৯ সালে ঘটতে পারে এর ব্যতিক্রম। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ক্যালেন্ডারভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ওই একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুটি হজ এবং তিনটি ঈদ পালনের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ দুটি ঈদুল আজহার সঙ্গে একটি ঈদুল ফিতরও একই বছরে পড়বে।

এর পেছনে মূল কারণ হিজরি চান্দ্রবর্ষ ও গ্রেগরিয়ান সৌরবর্ষের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য। হিজরি বছর চাঁদের আবর্তনের ওপর নির্ভরশীল এবং এতে সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন থাকে। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বছর ৩৬৫ দিন, অধিবর্ষে ৩৬৬ দিন। ফলে প্রতিবছর হিজরি তারিখ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যবধান জমতে জমতে একই হিজরি মাস কখনো কখনো একই গ্রেগরিয়ান বছরের শুরু ও শেষের দিকে চলে আসে।

হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের শুরুতেই প্রথম ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ ৫ বা ৬ জানুয়ারি। এটি হবে হিজরি ১৪৬০ সালের ১০ জিলহজ। ওই সময়ের হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতাও বছরের একেবারে শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর হিজরি বছর পরিবর্তনের সঙ্গে আবার জিলহজ মাস আসবে একই গ্রেগরিয়ান বছরের শেষ দিকে।

বছরের শেষ দিকে, ২৬ ডিসেম্বর ২০৩৯-এ দ্বিতীয় ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি হবে হিজরি ১৪৬১ সালের ১০ জিলহজ। ফলে জানুয়ারি ও ডিসেম্বর, একই গ্রেগরিয়ান বছরের দুই প্রান্তে দুটি পৃথক হিজরি বছরের হজের সময় পড়ে যাবে। দুটি হজের ক্ষেত্রেই আলাদাভাবে আরাফার দিন পালন করা হবে এবং হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন।

এ দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে পড়বে ঈদুল ফিতর। হিসাব অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর ২০৩৯ ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই বছরে জানুয়ারিতে একটি ঈদুল আজহা, অক্টোবরে ঈদুল ফিতর এবং ডিসেম্বরে আরেকটি ঈদুল আজহা। মোট তিনটি ঈদ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে এখানে ‘এক বছরে দুই হজ’ বলতে একই হিজরি বছরে দুইবার হজ বোঝানো হচ্ছে না। দুটি হজ হবে পরপর দুই হিজরি বছরে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সঙ্গে হিজরি বর্ষের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যের কারণে দুটি আলাদা হজের সময় একই ইংরেজি বছরের মধ্যে চলে আসবে।

এ ধরনের ক্যালেন্ডারগত ব্যতিক্রম শুধু ২০৩৯ সালের হজ ও ঈদের ক্ষেত্রেই নয়। ২০৩০ সালেও একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুবার রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একবার জানুয়ারিতে এবং আবার ডিসেম্বরে। এর আগে ১৯৯৭ সালে একই বছরে দুবার রমজান শুরু হয়েছিল।

তবে ২০৩৯ সালের উল্লেখিত তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। এগুলো ক্যালেন্ডার ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে করা পূর্বাভাস। ইসলামি মাসের চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে। ফলে বাস্তবে তারিখ কয়েক দিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top