নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকি যতই বাড়ানো হোক না কেন, ইরানের জনগণ কখনো মাথা নত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্পের উদ্দেশে পেজেশকিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ বরং আরও জোরালো হবে। তার ভাষায়, তারা কখনো মাথা নত করবেন না, হাঁটু গেড়ে বসবেন না।
সংলাপ ও আলোচনার জন্য ইরান প্রস্তুত থাকলেও কোনো ধরনের ‘শক্তির ভাষা’ তার দেশ মেনে নেবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
ফিলিস্তিন নিয়ে যা বললেন পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘের এই অধিবেশনে ফিলিস্তিন পরিস্থিতিও তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের ওপর একটি ‘খোলা ক্ষত’ হয়ে রয়েছে ফিলিস্তিন, আর গাজা বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন প্রস্তাব গৃহীত হলেও দখলদারিত্ব ও সহিংসতা থেমে নেই বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। বিশ্বে যতদিন দখলদারিত্ব, আগ্রাসন ও অবিচার থাকবে, ততদিন প্রতিরোধও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও প্রতিরোধের প্রতি মানুষের বিশ্বাস গাজা আরও দৃঢ় করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি, সঙ্গে যোগ করেন যে বোমা ও অবরোধ দিয়ে প্রতিরোধ ধ্বংস করা সম্ভব নয়।
নিজের ভূমি থেকে উৎখাত হলে যেকোনো মানুষই প্রতিরোধ করবে, বাড়িঘরে বোমা হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলেও সে প্রতিরোধ করবে বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। এ ছাড়া তার সামনে আর কী পথ খোলা থাকে, এই প্রশ্নও রাখেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক চাপেরও সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান। তার বক্তব্য, ইসরায়েলের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পাঠানো হচ্ছে ইরানে।
পারমাণবিক অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে থাকা সত্ত্বেও কেন পরিদর্শকরা ইরানেই আসবেন, প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, ইসরায়েল হামলা চালালেও নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে ইরানকে।
গাজায় ইসরায়েল ৭০ হাজারের বেশি নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। তার দাবি, ইরান যখন আলোচনার টেবিলে ছিল, তখনও তাদের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

