সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ ও পাসপোর্টে নতুন নিয়ম জারি

সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিশিয়াল ও সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সরকারি আদেশের (জিও) ভিত্তিতে সরকারি সফরে বিনা মূল্যে অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাওয়ার বিধানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তে ব্যক্তিগত ভ্রমণেও পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এই নির্দেশনায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যাতে সই করেছেন শাখার উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পূর্বে জারি করা এ সংক্রান্ত বিভিন্ন আদেশ ও নির্দেশনা সংশোধন ও সমন্বয় করে প্রকাশিত এই পরিপত্র জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিএজি), বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মচারীরা সরকারি কাজে বিদেশ গেলে জিওর ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাবেন। তবে এদের মধ্যে ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত সফরে যেতে চাইলে জিও বা অনাপত্তি সনদের (এনওসি) ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি দিয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্ট নিতে পারবেন।

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং বিশেষ আইন বা অধ্যাদেশে গঠিত কমিশনের ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা সরকারি কাজে বিনা ফিতে অফিশিয়াল পাসপোর্ট পেলেও ব্যক্তিগত কাজে ভ্রমণের জন্য তাদের নির্ধারিত ফি দিয়ে নিতে হবে সাধারণ পাসপোর্ট। উন্নয়ন প্রকল্পের অস্থায়ী কর্মী ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকারি কাজে বিনা ফিতে আর ব্যক্তিগত কাজে নির্ধারিত ফি দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট পাবেন। সরকারি সফরে যুক্ত কোনো বেসরকারি ব্যক্তিও জিওর ভিত্তিতে সাধারণ পাসপোর্টের জরুরি সেবা পাবেন।

পাসপোর্টের মেয়াদ ও শর্তের ক্ষেত্রে অফিশিয়াল পাসপোর্টের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তার এই মেয়াদ ও তার অবসরোত্তর ছুটির (পিআরএল) সমাপ্তির তারিখের মধ্যে যেটি প্রযোজ্য হবে সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হবে মেয়াদ, আর পিআরএলকালে চাইলে অফিশিয়াল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগও থাকছে। ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য অবশ্য প্রাধিকার থাকাকালীন শুধু অফিশিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক, এ সময় সাধারণ পাসপোর্ট নিতে হলে লাগবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত নন-ডিপ্লোমেটিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২৫ বছর বা তার কম বয়সী সন্তানরা বিনা ফিতে পাঁচ বছর মেয়াদি অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাবেন। ডিপ্লোমেটিক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ‘ডোমেস্টিক এইড’ নিয়োগের সরকারি অনুমোদন থাকলে তারাও নির্ধারিত ফি দিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাবেন, তবে মিশনে কর্মকাল শেষ হলে এই পাসপোর্ট জমা বা সমর্পণ করতে হবে।

জালিয়াতি ঠেকাতে জিও ও এনওসির সঠিকতা যাচাইয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে একজন ফোকাল পয়েন্ট ও একজন বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ফোকাল পয়েন্টদের পদবি, ফোন নম্বর ও ই-মেইলসহ বিস্তারিত তথ্য পাঠাতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে, আর ইস্যুকৃত সব জিও ও এনওসি প্রকাশ করতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top