টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন ও স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যু নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা যেন থামছেই না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল শিরোনাম এবং বিভিন্ন গুঞ্জন চলছেই। জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হলেও আলভী শেষবারের মত তার স্ত্রীকে দেখতে যাননি এবং তা নিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা।
গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার তাদের বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় এবং ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে।
জাহের আলভী তখন নেপালে একটি নাটকের শুটিংয়ে ছিলেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, খবরটি শোনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এরপর সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
আলভী ভিডিও বার্তায় বলেন, তাকে ঘিরে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জমেছে, আর সেগুলোর উত্তর দিতেই তিনি সামনে এসেছেন। বিশেষ করে অনেকেই জানতে চেয়েছেন, যে মানুষটি ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে প্রাণ দিল, তার শেষ সময়েও কেন তিনি পাশে থাকলেন না বা শেষবারের মতো দেখতে গেলেন না।
এ বিষয়ে আলভী দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে দেশে ফেরা নিরাপদ ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দেশে ফিরলেই তাকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং শারীরিকভাবে আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, তার ফোনে অসংখ্য হুমকিমূলক বার্তা এসেছে। এমনকি তিনি তথ্য পেয়েছেন যে বিমানবন্দরে তার জন্য লোকজন অপেক্ষা করছিল এবং সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তার ওপর হামলা চালানো হতে পারে।
স্ত্রীর শেষ দেখা না পাওয়ার প্রসঙ্গে আলভী বলেন, ইকরার মুখটি শেষবার দেখার সুযোগ তিনি পাননি। তার দাবি, ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।
নেপাল থেকে দেশে ফিরতে দেরি হওয়া নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। ঘটনার দিন সরাসরি কোনো ফ্লাইট ছিল না। একটি ট্রানজিট ফ্লাইট থাকলেও সেটিতে এলে পরদিন পৌঁছাতে হতো। তিনি সেদিনই দেশে ফেরার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনোভাবেই টিকিট নিশ্চিত করতে পারেননি।
পরদিন তিনি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। তবে পরে জানতে পারেন, দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি দেশে প্রবেশ করেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই কারণেই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফিরতে পারেননি এবং পুরো বিষয়টির পেছনে এটিই ছিল মূল কারণ।
এই ঘটনায় ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ পল্লবী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন, যেখানে বাদী হিসেবে তিনি জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করেছেন। মামলায় আলভীর সঙ্গে তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলি এবং অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকেও আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইকরার বাবা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং মানসিক চাপ ইকরাকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তিনি দাবি করেছেন, এটি আত্মহত্যা নয় বরং স্ত্রীকে প্ররোচিত করা হয়েছে এবং তিনি দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।
রবিবার বিকেলে ময়নাতদন্তের পর ইকরার মরদেহ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রানদিয়া গ্রামের নানাবাড়িতে নেওয়া হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই জানাজার সময় আগেই নির্ধারণ করা হলেও, শোক জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না জাহের আলভী।

