দেশজুড়ে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে তিনি চাঁদাবাজদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
চাঁদাবাজদের নেটওয়ার্ক, তাদের পৃষ্ঠপোষক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিএফআই, এনএসআই এবং পুলিশের বিশেষ শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিট গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’। তিনি বলেন, যে বা যারাই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
আইজিপি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা হাতে পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি এলাকায় পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, ফুটপাত ও বাজার এলাকায় নানা অজুহাতে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিটি বাস থেকে দৈনিক একশ থেকে দেড়শ টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকায় দখলদারি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ফুটপাত, সড়ক ও অন্যান্য জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নআয়ের ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। গোয়েন্দাদের মতে, শুধু গুলিস্তানেই বার্ষিক চাঁদাবাজির পরিমাণ অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা।
গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

