ভারতের উত্তর প্রদেশে ঘটেছে অবাক করা এক ঘটনা। চিকিৎসকদের ঘোষিত ‘ব্রেন ডেড’ অবস্থায় থাকা এক নারী অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র ঝাঁকুনির পর আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিনীতা শুক্লা নামে প্রায় ৫০ বছর বয়সী ওই নারী উত্তর প্রদেশের পিলিভিট এলাকার বাসিন্দা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত বেরেইলি শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং তিনি কার্যত ‘ব্রেন ডেড’ অবস্থায় রয়েছেন।
চিকিৎসকদের এমন ঘোষণার পর পরিবার গভীর হতাশায় পড়ে। পরিস্থিতি আশাহীন মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে বাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল। তখনও তার শ্বাসপ্রশ্বাস ছিল না, কেবল খুব দুর্বলভাবে হৃদস্পন্দন চলছিল বলে জানিয়েছেন তার স্বামী কুলদীপ কুমার শুক্লা।
পথে বেরেইলি–হরিদ্বার মহাসড়কের হাফিজগঞ্জ এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি একটি বড় গর্তে পড়ে তীব্রভাবে ঝাঁকুনি খায়। ঠিক সেই মুহূর্তের পরই হঠাৎ করে বিনীতা আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেন। ঘটনাটি দেখে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা পরিবারের সদস্যরা বিস্মিত হয়ে পড়েন এবং সাথে সাথেই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি বন্ধ করে দেন।
পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে নিউরোসিটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
পরিবার জানিয়েছে, বর্তমানে বাড়িতে ফিরে ওই নারী স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ঘটনাটি অস্বাভাবিক হলেও পরিবারের সদস্যরা এটিকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন।

