লালমনিরহাট সীমান্তে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সীমান্ত পরিস্থিতি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার যদি সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। মঙ্গলবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদিমুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, সীমান্তে একের পর এক বাংলাদেশি নিহত হলেও সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সীমান্তে নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে তাদের দল সরকার গঠন করতে পারলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে বলেন, সীমান্তে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্ত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সরকারকে দ্রুত ‘রেড অ্যালার্ট’ জারির আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সীমান্তবাসীকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সংঘবদ্ধ হওয়ারও পরামর্শ দেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত হত্যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিরীহ বাংলাদেশিরা প্রাণ হারাচ্ছেন। ফেলানি হত্যা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পরও সীমান্তে প্রাণহানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দুই দেশের বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনা হলেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে সীমান্ত হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়ছে প্রতিক্রিয়া। বিভিন্ন দল ও সংগঠন এ নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে। কেউ কেউ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি জোরালোভাবে তোলারও দাবি জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে শুধু কূটনৈতিক তৎপরতা নয়, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা এবং মানবাধিকারভিত্তিক নিরাপত্তা নীতি প্রয়োজন।

