বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধের সংকট এবং বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোমবার (১৫ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, পৃথিবীজুড়ে এখন মনুষ্যত্বের চেয়ে ভোগবাদ ও বিনোদনের প্রাধান্য বেড়ে গেছে। তার ভাষায়, পৃথিবীতে এখন কেবল “খোলস-মানুষের” বসবাস।
ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই বিশ্বকাপ আয়োজনের পেছনে প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলেই বিশ্বের ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন কোটি কোটি মানুষ খাদ্যের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, তখন একটি ক্রীড়া আসরের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রতি বৈশ্বিক উন্মাদনা মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়েরই প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, মানুষের অগ্রাধিকারের জায়গায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যা সমাজ ও সভ্যতার জন্য উদ্বেগজনক।
পোস্টের মন্তব্য অংশে তিনি চলমান বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে করপোরেট খাতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ও তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ইউকেজির এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে কর্মঘণ্টা ব্যাহত হওয়ায় করপোরেট দুনিয়ায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী ম্যাচের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের কাজের রুটিন পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী ম্যাচ দেখার কারণে দেরিতে অফিসে যাওয়া, আগেভাগে বের হয়ে যাওয়া অথবা কর্মঘণ্টায় অনুপস্থিত থাকার মতো আচরণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ এতে প্রতিক্রিয়া জানান এবং বিষয়টি নিয়ে নানা মতামত তুলে ধরেন।

