ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ও টিভি বিশ্লেষক ফেলিপে মেলো। তার মতে, নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ের দায় শুধু খেলোয়াড়দের নয়, কোচিং স্টাফেরও। ব্রাজিলের ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তে এ বিষয়ে তার মন্তব্য প্রকাশ করেছে।
একটি ক্রীড়া টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মেলো বলেন, বিশ্বের অন্যতম সফল কোচ হিসেবে আনচেলত্তিকে ব্রাজিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাই দলের এমন হতাশাজনক বিদায়ের দায় তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। তার ভাষায়, একজন কোচই দলের কৌশল, একাদশ নির্বাচন এবং ম্যাচ পরিকল্পনার মূল দায়িত্বে থাকেন। ফলে ব্যর্থতার ক্ষেত্রেও তার জবাবদিহি থাকা উচিত।
মেলো বলেন, “শুধু খেলোয়াড়দের দোষ দিলেই হবে না। আমরা ইতিহাসের অন্যতম সফল একজন কোচকে এনেছি। তাই এই পরাজয়ের জন্য তিনিও প্রথম দায়ী ব্যক্তিদের একজন। কোচই দলের পরিকল্পনা তৈরি করেন, তাই খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফকেও দায় নিতে হবে।”
নেইমারকে শুরুর একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই মিডফিল্ডার। ইনজুরির কারণে লুকাস পাকেতা ছিটকে যাওয়ার পর আনচেলত্তি গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলিকে একাদশে সুযোগ দেন। তবে মেলোর মতে, অভিজ্ঞ নেইমারকে শুরু থেকেই খেলানো হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
তিনি বলেন, “আমি কোচের নিজস্ব পরিকল্পনাকে সম্মান করি। কিন্তু আমি হলে শুরু থেকেই নেইমারকে মাঠে নামাতাম। প্রথমার্ধে নেইমার খেললে হয়তো পেনাল্টিটি তিনিই নিতেন এবং গোল করতে পারতেন। তখন ম্যাচের গতিপথও বদলে যেতে পারত।”
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেস একটি পেনাল্টির সুযোগ নষ্ট করেন। পরে দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দলের এই হতাশাজনক বিদায়ের পর আনচেলত্তির কৌশল, একাদশ নির্বাচন এবং বদলি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

