জুলাই শহীদের অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা, দুর্দশায় মা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের পরিবারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শহীদ সন্তানের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আব্দুল মতিন গত ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিয়েতে সাত লাখ টাকার কাবিন এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছে, যার অর্থের একটি অংশ শহীদ ছেলের অনুদান থেকে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, তার অনুমতি ছাড়াই স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিনি দাবি করেন, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী এত ব্যয়বহুল বিয়ে করা সম্ভব ছিল না। তার ভাষ্য, শহীদ ছেলের জন্য পাওয়া সরকারি সহায়তার অর্থই এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছেলে শাহরিয়ারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় অর্থ সংগ্রহ ও প্রতারণার চেষ্টাও করেছেন আব্দুল মতিন।

মমতাজ বেগমের অভিযোগ, একপর্যায়ে শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ৩০ লাখ টাকা তার স্বাক্ষর জাল করে তোলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। তবে তিনি সতর্ক থাকায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে দাবি করেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।

অন্যদিকে আব্দুল মতিন সব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তার দাবি, বংশ রক্ষার প্রয়োজন এবং মায়ের অনুরোধে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, নিজের চাকরির আয় থেকেই বিয়ের খরচ বহন করেছেন, ছেলের অনুদানের অর্থ ব্যবহার করার প্রশ্নই ওঠে না।

জুলাই আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ জুলাই তিনি মারা যান। শহীদ পরিবারের এই নতুন বিতর্ক স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াসও ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top