রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। সোমবার রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করে।
বিচারক রফিকুল ইসলাম তিন দিনের রিমান্ডের পরিবর্তে আগামী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে চার সদস্যের পরিবার হত্যা করেছে। গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রদান করতেন। ২২ আগস্টের রাতে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীসহ তার লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।
তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যার আগে ইয়াবা সেবনের কথা উল্লেখ থাকলেও ডোপ টেস্টে তাদের মধ্যে কোনো মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতি তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। তবে নতুন তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ এবং নতুন তথ্য আবিষ্কারের কারণে আদালত এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা অনুমোদন করেছেন। তিনি আরও জানান যে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

