এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুলের দায়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের দেড় সহস্রাধিক প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাদের এই মূল্যায়ন-ভুলে ফলাফল বদলে গেছে ২ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থীর, যাদের মধ্যে ৩৮০ জন পুনর্নিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাশ করেছেন এবং ১ হাজার ৩০৪ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে, যার মধ্যে ৭৫২ জন শিক্ষার্থী নতুন করে পেয়েছেন জিপিএ-৫।
এ প্রসঙ্গে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী জানান, বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, কে কী ধরনের ভুল করেছেন তা বিবেচনায় রেখেই তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ভুলের মাত্রা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ থেকে বিরত রাখা কিংবা খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার মতো শাস্তি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরীক্ষকদের এ ধরনের গাফিলতি বা ভুল কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার মূল ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফল প্রকাশের পরদিন থেকে টানা সাত দিন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়, যে সময়ে ২৮ হাজার ৮৬২ জন শিক্ষার্থী মোট ৭৪ হাজার ৭১৭টি পত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।
বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, পুনর্নিরীক্ষণের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন আসার বিষয়টি পর্যালোচনা করেই খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি ও ভুল করা পরীক্ষকদের শনাক্ত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

