ফিলিস্তিনিরা মাতৃভূমি ছাড়বে না, বাস্তুচ্যুতিও মানবে না : প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। বার্তায় তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের মাতৃভূমি কখনো ছাড়বে না, বাস্তুচ্যুতি মেনে নেবে না এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অন্য কারও হাতে তুলে দেবে না। নিজ ভূমি, ঐক্য ও বৈধ অধিকার অবিচল রেখে ফিলিস্তিনিরা গর্ব ও মর্যাদার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে আব্বাস বলেন, গত সেপ্টেম্বরে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর নেতারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্তিকরণ ঠেকানো এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান। তার ভাষ্যে, ইসরায়েলের ভূমি দখলের কর্মকাণ্ডকে ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা ও আর্থিক সম্পদ নিঃশেষ করার প্রচেষ্টা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এসবের লক্ষ্য একটাই— ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে টিকে থাকার সক্ষমতা খর্ব করা।

দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবিচারের পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে হত্যা, ধ্বংস, অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির চেষ্টার শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরে আব্বাস মন্তব্য করেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সময়ের মুখোমুখি।’ গাজায় চলমান সংঘাতকে তিনি ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে আবাসিক এলাকা, শহর, শরণার্থীশিবির, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ ও গির্জা, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানুষের মৌলিক জীবনধারণের সংস্থান ও একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে, পশ্চিম তীরকে খণ্ডিত করা হচ্ছে এবং জেরুজালেমকে বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দখলদার বাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করে তিনি জানান, একই সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে ভূমি দখল, বাড়িঘর ধ্বংস, নতুন চেকপোস্ট স্থাপন ও অভিযান।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমেই বক্তব্য দেন তিনি। সাধারণ পরিষদে ১৫২ ভোটে তাকে এই ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, বিপক্ষে ভোট পড়ে তিনটি এবং চারটি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top