ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী অভিযানের সময় মঙ্গিলাল নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রশাসনের দাবি, সরাফা বাজার এলাকায় ভিক্ষা করা ওই ব্যক্তির তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুদে অর্থ দেওয়ার তথ্যও পেয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে মঙ্গিলাল নিজে ভিক্ষা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও কিছু সম্পত্তি ও যানবাহনের মালিকানা নিয়ে প্রশাসনের দাবির বিরোধিতা করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসে ইন্দোরে চলমান ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী অভিযানের সময়। নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের একটি দল সরাফা বাজার এলাকা থেকে মঙ্গিলালকে নিয়ে যায়। কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি চাকা লাগানো একটি লোহার ছোট গাড়িতে চলাফেরা করতেন। তাঁর কাঁধে ব্যাগ থাকত এবং দুই হাত জুতার মধ্যে রাখা অবস্থায় দেখা যেত। পথচারীদের কাছে সরাসরি অর্থ চাইতেন না; বরং তাঁকে দেখে মানুষ স্বেচ্ছায় টাকা দিত বলে কর্মকর্তারা জানান।
কর্মকর্তাদের দাবি, এভাবে প্রতিদিন তাঁর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি আয় হতো। তবে ভিক্ষা থেকে পাওয়া অর্থ তিনি সরাফা এলাকার ব্যবসায়ীদের এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য জন্য ধার দিতেন এবং সেখান থেকে সুদ পেতেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনের হিসাবে, প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ধার দিয়েছিলেন এবং তা থেকে দৈনিক প্রায় ১ থেকে ২ হাজার রুপি পর্যন্ত আয় হতো বলে ধারণা করা হয়।
মঙ্গিলালের সম্পদের বিষয়ে কর্মকর্তারা জানান, ইন্দোরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। আরও দুটি বাড়ির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি এক বেডরুমের ফ্ল্যাট পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। তাঁর তিনটি অটোরিকশা ভাড়ায় চলত এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়িও ভাড়ায় ব্যবহৃত হতো বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মঙ্গিলালকে পরে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে রাখা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইন্দোর প্রশাসনের ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়। এই অভিযান ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় ইন্দোরে কয়েক হাজার ভিক্ষুককে শনাক্ত করা হয়েছে; তাদের একটি অংশকে কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

