বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অভিনেতা সালমান খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা, টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’ সঞ্চালনা, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের মজুমদার-হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট অনুযায়ী, তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি রুপি। কিন্তু এই তারকার শৈশবের দিনগুলো এতটা স্বচ্ছল ছিল না। একসময় স্কুলের বেতন সময়মতো দিতে না পারায় তাঁকে ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল, এমনকি পরে স্কুল থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি কাজল ও টুইঙ্কল খান্নার উপস্থাপনায় ‘টু মাচ’ অনুষ্ঠানে নিজের শৈশবের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান সালমান। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা আমির খানও। সালমান জানান, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন তাঁকে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে সেদিন তাঁর কোনো দুষ্টুমি বা অপরাধের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়নি। স্কুলের বেতন সময়মতো পরিশোধ না হওয়াই ছিল কারণ।
ছেলেকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সালমানের বাবা সেলিম খান শিক্ষকের কাছে কারণ জানতে চান। শিক্ষক জানান, সালমান কোনো ভুল করেননি; বেতন বাকি থাকায় তাকে বাইরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শুনে সেলিম খান পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, যদি বেতন না দেওয়াই অপরাধ হয়, তাহলে তাঁর ছেলেকে কেন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। পরে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কিছুদিন পর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত সালমানকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সালমানের শৈশবে তাঁর বাবা সেলিম খানও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ষাটের দশকে মুম্বাইয়ে আসার পর তিনি মেরিন ড্রাইভ এলাকার একটি অতিথিশালায় থাকতেন। পুরো একটি কক্ষের ভাড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্য তখন তাঁর ছিল না। পরে অভিনয় থেকে চিত্রনাট্য লেখায় আসেন সেলিম খান। জাভেদ আখতারের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘জঞ্জির’, ‘শোলে’ ও ‘দিওয়ার’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমার চিত্রনাট্য লেখেন তিনি এবং একসময় ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া চিত্রনাট্যকার হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে, সালমানও ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তাঁর। সিনেমাটিতে তাঁর পারিশ্রমিক ছিল ৩১ হাজার রুপি। পরে তাঁর অভিনয় দেখে সেই পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ৭৫ হাজার রুপি করা হয়। এর আগে মাত্র ১৪ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে পেছনের সারির নৃত্যশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। সেখান থেকে পেয়েছিলেন ৭৫ রুপি।
১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে বড় সাফল্য পান সালমান। সিনেমাটি ব্যবসাসফল হওয়ার পরও কিছু সময় কাজের প্রস্তাব পাচ্ছিলেন না তিনি। পরে তাঁর বাবা সেলিম খানের উদ্যোগে প্রযোজক জি পি সিপ্পি সালমানকে একটি সিনেমায় নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর তাঁর কাছে একের পর এক কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করে।
সেই আর্থিক সংকটের দিন পেরিয়ে আজ সালমান ভারতের অন্যতম ধনী অভিনেতা। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি রুপি। ধনী ভারতীয় অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় তাঁর ওপরে রয়েছেন শাহরুখ খান ও অমিতাভ বচ্চন। শাহরুখ খানের আনুমানিক সম্পদ ১০ হাজার কোটি এবং অমিতাভ বচ্চনের প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি।
সালমানের সামনে রয়েছে আরও দুটি সিনেমা। ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ সিনেমাটি দীপাবলির পর মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ‘মনস্টার’ সিনেমায় কাজ করছেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন নয়নতারা।

