বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেও তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ফিরে যাওয়াকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। এর আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এবারও তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে। তবে সেই আশঙ্কা তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্ব, নারীদের প্রতি দুর্ব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান। এসব অভিযোগের বিষয়ে ওই বক্তব্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট নয়।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময়কার দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। এদিকে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাননি। তিনি বলেছেন, উপযুক্ত সময়ে ফেরার তারিখ ও বিস্তারিত জানাবেন। ফলে ডিসেম্বরে তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা কীভাবে এবং কখন কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

