কক্সবাজারে ৮০০ মিটার সৈকত দখল করে ‘প্রাইভেট বিচ’

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশকে ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত এ সৈকতকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে তুলে ধরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় সৈকতের পরিবেশ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে ইনানী সৈকতের ওই অংশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টের অতিথিদের সৈকতে যাতায়াতের জন্য বালিয়াড়িতে দুটি পথ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।

রিসোর্টটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে সৈকতের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট নির্মাতার প্রচারমূলক ভিডিওতেও জায়গাটিকে রিসোর্টের ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ভিডিওটি পরে রিসোর্টের ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই স্থানে প্রথমে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়েছিল। পরে এর পেছনে রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়। গত দুই বছর ধরে সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত সৈকতের পরিচয় ব্যবহার করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বালিয়াড়িতে তাঁবু স্থাপন করে বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সৈকতকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে প্রচার করে পরিবেশের ক্ষতি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকতকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে প্রচার করা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার শামিল হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, মেরিনড্রাইভের পাশে অনুমোদনহীন অবকাঠামো শনাক্ত করতে ডিজিটাল জরিপ চলছে। সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর বিষয়ে সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

কউকের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিয়ম না মানার কারণে গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় নিয়ম ভেঙে স্থাপনা নির্মাণ কিংবা সৈকত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেলে জরিমানা ও মামলা করা হয়।

‘হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড’-এর মাধ্যমে পরিচালিত বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, তিনি সম্প্রতি সেখানে যোগ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, রিসোর্টের কিছু অতিথি তাঁদের ভিডিওতে সামনের সৈকতকে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। তবে মালিকানা ও অনুমোদন বিষয়ে তিনি জানান, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে রিসোর্টটি গড়ে তুলেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top