বর্তমান সময়ে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে হতাশায় ভোগেন অনেক চাকরিপ্রত্যাশী। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি জীবিকার জন্য আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায় হজরত মুসা (আ.)-এর জীবনের একটি ঘটনা থেকে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত তাঁর একটি দোয়া রিজিক, আশ্রয় ও কল্যাণ কামনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আলোচিত।
ফেরাউনের অত্যাচার ও রোষানল থেকে বাঁচতে মিসর ছেড়ে মাদইয়ানে চলে যান হজরত মুসা (আ.)। সেখানে পৌঁছে একসময় তিনি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় পড়েন। খাবার, আশ্রয় ও জীবিকার নিশ্চয়তা না থাকায় তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
একদিন মাদইয়ানের একটি কূপের কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অনেক রাখাল তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছেন। সেখানে দুজন নারী নিজেদের পশু নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। মুসা (আ.) তাঁদের অপেক্ষার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা জানান, রাখালরা সরে না যাওয়া পর্যন্ত তাঁরা পশুদের পানি পান করাতে পারেন না। তাঁদের বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় পশু দেখাশোনার দায়িত্ব তাঁদেরই পালন করতে হয়।
এ অবস্থা দেখে মুসা (আ.) তাঁদের পশুদের পানি পান করাতে সহযোগিতা করেন। এরপর একটি ছায়াময় স্থানে গিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে দোয়া করেন।
দোয়াটি হলো:
رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।
দোয়াটি পবিত্র কোরআনের সুরা কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর মুসা (আ.)-এর জীবনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়। যে দুই নারীকে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁদের একজন নিজের বাবার কাছে মুসা (আ.)-কে কাজে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি মুসা (আ.)-এর শক্তি ও বিশ্বস্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে তাঁদের বাবা তাঁকে কাজের সুযোগ ও আশ্রয় দেন। এ ঘটনা সুরা কাসাসের ২৫ ও ২৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, জীবিকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার পাশাপাশি মানুষের উপকার করা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে সুরা তালাকের ২ ও ৩ নম্বর আয়াতেও আল্লাহর ওপর ভরসা এবং তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য উত্তরণের পথ ও অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের সুসংবাদের কথা বলা হয়েছে।
তাই চাকরিপ্রত্যাশীদের হতাশ না হয়ে দক্ষতা বাড়ানো, নিয়মিত চাকরির আবেদন করা এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। একই সঙ্গে উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল পথ অনুসরণ এবং ঘুষ, প্রতারণা ও অন্যায় থেকে দূরে থাকাও জরুরি।
হজরত মুসা (আ.)-এর এই ঘটনা শিক্ষা দেয়, দোয়া, ধৈর্য, মানুষের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

