ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। এরই মধ্যে বিরোধী জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাফতালি বেনেট ও ইয়ার গোলান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরে সরকার গঠনের আলোচনায় আইজেনকটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
নেতানিয়াহুবিরোধী চারটি জায়নবাদী দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘চেঞ্জ ব্লক’ নতুন সরকার গঠনের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জোটটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াচাদ পার্টি পেয়েছে ১২টি এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি পেয়েছে আটটি আসন। নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বেনেট। সেই অবস্থান থেকেই তিনি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছেন।
এদিকে জোটের চতুর্থ দল ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যানের সঙ্গে আইজেনকটের বৈঠক হলেও আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। লিবারম্যান মনে করেন, আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারণায় সামনে আনা বিরোধীদের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হয়েছে।
সরকার গঠনের পাশাপাশি পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিরোধী জোট। তাদের অন্যতম পরিকল্পনা হলো নেসেটের বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগ দেওয়া। ওহানা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য। পার্লামেন্টের কার্যসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আমির ওহানাকে সরানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকলে লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। অন্যদিকে আইজেনকটের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, স্পিকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা থেকে তারা সরে আসবেন না। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় নেই।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক নিয়োগের নির্বাচন নতুন করে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিরোধী জোট। গত জুনে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল রাবেলোকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের পর দেশটির হাইকোর্ট পুনরায় ভোট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে বিরোধীদের মধ্যে ঐক্য তৈরি হলেও সরকার গঠনের পথ এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আরব নেতৃত্বাধীন দল ও অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে আইজেনকটের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে এসব রাজনৈতিক সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

