চৌদ্দ শতকের ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দিরের জায়গা বলে রায় দিল হাইকোর্ট

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালত ওই স্থাপনাকে হিন্দুদের সরস্বতী মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সেখানে পূজার অধিকার থাকবে শুধুমাত্র হিন্দুদের। একই সঙ্গে মুসলিমদের নামাজ পড়ার পূর্বের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে নতুন করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার আদালতের ইন্দোর বেঞ্চের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ঐতিহাসিক নথি, সাহিত্য এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা থেকে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, ওই স্থানে অতীতে সরস্বতী মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। আদালতের মতে, সেখানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ভোজশালা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। হিন্দুদের দাবি, পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের আমলে (১০১০-১০৫৫) সেখানে সরস্বতী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায় এটিকে কামাল মাওলা দরগা ও মসজিদ হিসেবে দাবি করে আসছে। এটি চতুর্দশ শতকে সুফি সাধক কামালউদ্দিনের মৃত্যুর পর গড়ে উঠেছিল। বহু বছর ধরে প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা পূজা এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ আদায় করতেন। বসন্ত পঞ্চমীতেও সরস্বতী পূজার অনুমতি ছিল। তবে নতুন রায়ের ফলে মুসলিমদের সেই নামাজের অধিকার বাতিল হয়ে গেল।

আদালত আরও জানিয়েছে, মুসলিম সম্প্রদায় চাইলে বিকল্প স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জমি চাইতে পারবে এবং সরকারকে সেই আবেদন গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব এএসআইয়ের হাতেই থাকবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ রায়ের পর ভারতের অযোধ্যা, কাশী ও মথুরার মতো বিতর্কিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর প্রসঙ্গ আবারও আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহাসিক দাবি ঘিরে এ ধরনের রায় ভারতে সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, ভবিষ্যতে আরও অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ একই ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মুসলিম পক্ষ ইতোমধ্যে রায়টিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এএসআইয়ের সমীক্ষা নিরপেক্ষ ছিল না এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখন তারা ভারতের সুপ্রিমকোর্ট আপিল করবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top