নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়ি থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৯৯ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঈমান আলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করে। ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, যার বাড়ি থেকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস সামাদ। তিনি চরজব্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। প্রশাসনের অভিযানের সময় বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত বস্তাগুলো পাওয়া যায়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িটি ঘেরাও করেন এবং পরে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায় এবং চালগুলো জব্দ করে।
চরজব্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাউছার আহম্মেদ জানান, মোট ৯৯ বস্তা চাল পাওয়া গেলেও এর মধ্যে চার বস্তা বাড়ির লোকজন খুলে ফেলেছিল। তাই বাকি ৯৫ বস্তা জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চালগুলো আপাতত পরিষদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আবদুস সামাদকে চালগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা দাবি করেছেন, চালগুলো লক্ষ্মীপুরের রামগতির তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওছমান বলেন, সরকারি কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ দেওয়া চাল ব্যক্তিগতভাবে মজুত বা কেনাবেচার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, সরকারি চাল গোপনে বাড়িতে সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। যদিও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে এবং যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সহায়তার চাল নিয়ে অনিয়মের ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাদ্য সহায়তা আত্মসাৎ বা অবৈধ মজুতের অভিযোগ ওঠে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। অনেকে মনে করছেন, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা নিয়ে অনিয়ম হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

