সংস্কার না করলে, আপনার গদি থাকবে কি না নিশ্চয়তা দিতে পারি না: নাসীরুদ্দীন

রাজশাহীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যোগদান অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা সরকার, বিএনপি এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্ড নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জনগণকে শুধু কার্ড দিয়ে ঘোরানো হলে হবে না, সেই কার্ডে বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে “লাল কার্ড” দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে সরকারের উদ্দেশে দেওয়া হুঁশিয়ারি। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অগ্রাহ্য করা হলে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

এ সময় তিনি দেশের সংস্কার প্রশ্নেও জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। তার দাবি, রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণ কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোট ও মতামতকে উপেক্ষা করা হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি এখন নিজেদেরকে একটি সংস্কারমুখী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

অনুষ্ঠানে ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের প্রসঙ্গও উঠে আসে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাওলানা ভাসানী একসময় ভারতের বিরুদ্ধে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। তার অভিযোগ, বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক দল ভাসানীর রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহার করলেও তার আদর্শ অনুসরণ করছে না। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ভারতের প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগও তোলেন।

এদিকে সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, দেশে আগে যেমন চাঁদাবাজি ছিল, এখনও তেমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের রাজনৈতিক ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতে জনগণ কোনো দলকেই ছাড় দেবে না। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বিদেশি প্রভাবের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, জনগণ আর আগের মতো রাজনীতি দেখতে চায় না।

অনুষ্ঠানের বড় আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এনসিপিতে যোগদান। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী দলটিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, কুয়েত বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং আরও কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন দলগুলোর তৎপরতা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব ও সংস্কারভিত্তিক বক্তব্যের মাধ্যমে এনসিপি নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সংগঠন, জনসমর্থন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top