ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছেন সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানান, জিন্নাহর তিনটি ছবি একজন শিক্ষার্থী ছিঁড়ে ফেলেছেন। ডাকসু সংগ্রহশালায় এই ছবির পাশাপাশি তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবিও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনাকে ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছে। প্রশাসনের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এই ধরনের ছবি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই তদন্তের পাশাপাশি, ডাকসুর বিরুদ্ধে আরও দুটি বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইট চালু করা। অন্যটি হলো অনুমতি ছাড়াই ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের উপর ন্যস্ত। পাশাপাশি, ছাত্র সংসদকে উপাচার্যের নির্দেশনা মেনে কাজ করার বিধান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ডাকসু এই সকল নিয়ম মেনে চলেনি।

