বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি ‘পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র’। পারস্পরিক স্বার্থ, অভিন্ন লক্ষ্য ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা এবং উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক অবদান দুই দেশের দৃঢ় অংশীদারিত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এই সহযোগিতা শুধু মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় নয়, বরং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বকেও আরও সুসংহত করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অঙ্গীকার ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও সরকারের প্রতি স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হলে তা শুধু বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।

