ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সদ্য গঠিত বিজেপি সরকারের গরু কেনাবেচায় নতুন বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ঈদুল আজহার আগে জারি করা এ নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হিন্দু গরু পালনকারী ও মুসলিম ক্রেতারা। ফলে ধর্মীয় ইস্যুর পাশাপাশি বিষয়টি এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার মাত্র চার দিন পর, অর্থাৎ ১৩ মে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, সরকারি অনুমতি এবং গবাদিপশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার সনদ ছাড়া গরু কেনাবেচা বা জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদিপশু জবাইয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরুর বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। মুসলিম ক্রেতারা অনিশ্চয়তার কারণে গরু কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন হিন্দু গরু পালনকারী ও ব্যবসায়ীরা, যারা সারা বছর গরু লালন-পালন করে ঈদের সময় বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের আয় করেন।
বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের নেতা ইউনুস আলী গণমাধ্যমকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিতে হিন্দু গোপালক ও মুসলিম ক্রেতাদের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। হিন্দুরা গরু পালন ও দুগ্ধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও সাধারণত মুসলিমরাই গরু কিনে থাকেন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। দলটির সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন, বিজেপি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সব ধর্মের দরিদ্র মানুষ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, করপোরেট পর্যায়ে মাংস রপ্তানি বৈধ থাকলে সাধারণ মানুষের ব্যবসার ওপর এমন বিধিনিষেধ কেন আরোপ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন ভিডিও ও প্রতিবেদনে দেখা যায়, বহু হিন্দু খামারি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরছেন। তাদের দাবি, ঈদের সময় গরু বিক্রির টাকায় তারা কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন। এখন বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্র পাল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

