সৌদি আরবে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে দেশে ফিরেছিলেন নিজের বাড়িতে স্বস্তিতে থাকার আশায়। কিন্তু দেশে ফেরার পর সেই বাড়িতেই প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না ফেনীর এক প্রবাসী যুবক। নিজের বসতঘরের সামনে তালা ঝুলছে, আর দিন কাটছে কখনো বারান্দায়, কখনো খোলা আকাশের নিচে। এর মধ্যে বাবার কাছ থেকেই শুনতে হয়েছে, তিনি নাকি তার ছেলে নন।
ঘটনাটি ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের দক্ষিণ খানে বাড়ি এলাকায়। ভুক্তভোগী যুবকের নাম নজরুল ইসলাম রাব্বি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর থেকে নিজের বসতঘরে ঢুকতে না পেরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান রাব্বি।
রাব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে থাকার সময় তিনি ও তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন একসঙ্গে উপার্জন করেছেন। তাঁদের উপার্জনের অর্থে বাড়ির জায়গা-জমি ও বসতঘর তৈরি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি জানেন বলে দাবি তাঁর। তবে দেশে ফেরার পর বাবার বাধার কারণে সেই ঘরে প্রবেশ করতে পারছেন না তিনি।
রাব্বি বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিশ্রম করে তিনি ও তাঁর বাবা সম্পদ ও ঘরবাড়ি গড়ে তুলেছেন। অথচ দেশে ফেরার পর সেই বাড়িতেই তাঁর থাকার জায়গা হচ্ছে না। নিজের জন্মভিটায় প্রবেশের সুযোগ না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান।
এদিকে রাব্বির বোনের সঙ্গেও তাঁদের বাবার বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তাঁর মুঠোফোনসহ প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রও আটকে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাব্বির অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বাবা জামাল উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছেলেকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকার করেননি। নিজের বাড়ি ও সম্পত্তিতে রাব্বির প্রবেশের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অনেকেই প্রবাস থেকে ফিরে একজন মানুষের নিজের বাড়িতেই আশ্রয় না পাওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

