বাংলাদেশ থেকে কুকুর পাচার হচ্ছে ভারতে

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে কুকুর পাচারের একটি বড় চক্র কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, লংগদুর বিভিন্ন গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকা থেকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। পরে নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদ অতিক্রম করে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী দুর্গম পথ ব্যবহার করে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। পুরো প্রক্রিয়াটি সংঘবদ্ধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাধারণত মার্চ মাসে পালিত হয় মিজোরামের ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’। কৃষিভিত্তিক এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন উৎসবের জন্য কুকুর শিকার করে পাচার করার প্রবণতা বেড়েছে। কয়েকজন শিকারির দাবি, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং কুকুর ধরা হচ্ছে খাওয়ার উদ্দেশ্যে।

বাংলাদেশে মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা কিংবা অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী । রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, মিজোরামের কিছু এলাকায় বসন্ত উৎসবে কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এই কারণে শিকার বেড়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি সতর্ক করে জানান, জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বাহক কুকুর। ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় কুকুরকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার পর যদি সেখান থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়া হয় তাহলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। তখন টিকাবিহীন কুকুর এসে স্থান দখল করে, যা রোগ বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণে নির্বিচারে কুকুর অপসারণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top