বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, জোট গঠনের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার “পা ধরতে বাকি রেখেছিলেন”।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপির সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করার লক্ষ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বহু চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষায়, “এনসিপির সঙ্গে জোট করার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল। এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই সে এমন করেছিল।”
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাকে নিয়ে “বাজে কথা” বলেছেন। এর জবাব দিতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব মন্তব্য করেছেন বলে জানান।
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তবে পরে এনসিপি জামায়াতের কাছে “১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে” বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক এই নেতা বলেন, “আমি জানতাম আদর্শচ্যুত বাম-শিবির ঘরানার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শেষ পর্যন্ত জামায়াতের কাছেই যাবে। এজন্য আমি তাদের ফাঁদে পা দিইনি।”
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকেই গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল এবং তিনি এমন কোনো দলে যোগ দেননি, যাকে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি মনে করেন।
সবশেষে তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, পাটওয়ারীর ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকেই তিনি জেনেছেন যে এনসিপির এই নেতা মাদক সেবন করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গালিগালাজ ও বেয়াদবি যদি স্বাধীনতা হয়, তবে প্রতিবাদে ডিম মারাও সংক্ষুব্ধ মানুষের স্বাধীনতা।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

